Saturday, June 20, 2020

রসুলুল্লাহ (সা:) ভবিষ্যতের একদল লোকের কথা বলে গেছেন, যারা কুরআন পাঠ করবে কিন্ত তা তাদের কন্ঠনালীর নীচে নামবে না! ভেবে দেখেছেন কি এ কথাটি দ্বারা আসলে তিনি (সা:) কি বোঝাতে চেয়েছেন? আসলে তারা তিলাওয়াত করবে ঠিকই কিন্তু আয়াতের অর্থবোধ সম্বন্ধে কিছুই বুঝবে না, আর আয়াতের অর্থবোধ না বুঝলে তা থেকে তারা কি করে লাভবিত হবে?

সুতরাং নিজের তিলাওয়াতের প্রতি যত্নবান হউন, অর্থ বুঝে পড়ুন। তাড়াহুড়া করে অনেকক্ষণ পড়ার কোন প্রয়োজন নেই , বরং ধীরে অল্প অল্প করে প্রতিদিন নিয়মিত পাঠ করুন আর যা পাঠ করলেন তার অর্থবোধ সম্বন্ধে ভাবুন এবং কি করে একে বাস্তব জীবনে আমলে রুপান্তরিত করা যায় সে ব্যাপারে পরিকল্পনা ও মনস্থির করুন। শুধুমাত্র তাহলেই আপনি কুরআনের প্রকৃত রহমত পাওয়ার আশা করতে পারেন। কুরআন বিশ্বাসীদের জন্য শেফা ও রহমত স্বরুপ আর সন্দেহ পোষণকারী ও অবিশ্বাসীদের জন্য এটি ক্ষতিই বৃদ্ধি করে (সূরা বানী ইসরাইল ৮২)



আবূ সাঈদ খুদরী (রা:) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, "ভবিষ্যতে এমন সব লোকের আগমন ঘটবে, যাদের সালাতের তুলনায় তোমাদের সালাতকে, তাদের সওমের তুলনায় তোমাদের সওমকে এবং তাদের আমালের তুলনায় তোমাদের আমালকে তুচ্ছ মনে করবে। তারা কুরআন পাঠ করবে, কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালীর নিচে (অর্থাৎ অন্তরে) প্রবেশ করবে না। এরা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমনভাবে নিক্ষিপ্ত তীর ধনুক থেকে বেরিয়ে যায়। আর শিকারী সেই তীরের আগা পরীক্ষা করে দেখতে পায়, তাতে কোন চিহ্ন নেই। সে তীরের ফলার পার্শ্বদেশে নজর করে, অথচ সেখানে কিছু দেখতে পায় না। শেষে ঐ ব্যক্তি কোন কিছু পাওয়ার জন্য তীরের নিম্নভাগে সন্দেহ পোষণ করে"। 

________ সহিহ বুখারী (তাওহীদ) হাদিস নম্বর ৫০৫৮
Online Source: hadithbd.com




Share:
কুরআন অল্প করে হলেও নিয়মিত পড়া উচি‌ৎ। সম্ভব হলে দিনে একবার এবং রাতে একবার। মনের বিরুদ্ধে কখনো পড়া দীর্ঘায়িত করা ঠিক নয়। টানা ততক্ষণ পর্যন্ত পড়ুন যতক্ষণ পর্যন্ত মন স্থির থাকে। মন অস্থির মনে হলে পড়া থামিয়ে দিন।



জুনদুব ইবনে আবদুল্লাহ (রা:) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, "যতক্ষণ পর্যন্ত ইবাদাত মনের চাহিদার অনুকূল হয় তিলাওয়াত করতে থাক এবং মনোসংযোগে ব্যাঘাত ঘটলে পড়া ত্যাগ কর"। 

______ সহীহ বুখারী (তাওহীদ) হাদিস নম্বর ৫০৬০
 মুসলিম ৪৭/১, হাঃ ২৬৬৭, আহমাদ ১৮৮৩৮]
Online Source: hadithbd.com


Share:
এক বা দুই দিনে কুরআন খতম (সম্পূর্ণ কুরআন পড়ে শেষ করা) করা ঠিক নয় কারণ রসুলল্লাহ (সা:) এটা অপছন্দ করতেন এবং এভাবে পড়ে কুরআনের সঠিক নির্দেশনা 'জীবন গঠনের জন্যে যা অপরিহার্য' তা বুঝে উঠা সম্ভবপর হয়না।



আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা:) থেকে বর্ণিত রসুলল্লাহ (সা:) বলেছেন, "তিন দিনের কম সময়ে যে লোক কুরআন পাঠ করল সে কুরআনের কিছুই বুঝেনি"। 

___________সূনান আত তিরমিজী হাদিস নম্বর ২৯৪৯, 
সহীহ আবূ দাউদ ১২৬০, মিশকাত ২২০১
Online Source: hadithbd.com

অপর এক হাদীসে আছে রসুলল্লাহ (সা:) ৪০ দিনে কুরআন খতম করার নির্দেশ দিতেন।
আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা:) থেকে বর্ণিত, রসুলল্লাহ (সা:) তাকে বলেছেন "তুমি চল্লিশ দিনে কুরআন পাঠ (শেষ) করবে"।

___________সূনান আত তিরমিজী হাদিস নম্বর ২৯৪৭, 
সহীহ আবূ দাউদ ১২৬১,
Online Source: hadithbd.com



Share:
কোন ব্যক্তি যখন জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে বের হয় তখন আল্লাহ তায়ালা তার জন্যে জান্নাতের রাস্তা সহজ করে দেন, তিরমিজী শরীফের (২৬৮২) একটি সহিহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে 'ফেরেস্তাগণ জ্ঞান অন্বেষণকারীর রাস্তায় 'ডানা' বিছিয়ে দেন!  জমিনের সমস্ত প্রাণী এমনকি পানির মাছ পর্যন্ত তার জন্যে মাগফিরাতের দোয়া করতে থাকে। সুতরাং সময় পেলেই জ্ঞানের দিকে অগ্রসর হন এরকম একটা রহমত পূর্ণ কাজ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করবেন না।



আবূ হুরাইরাহ (রা:) থেকে বর্ণিত রসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, "যে লোক জ্ঞান অর্জনের পথে বের হয় আল্লাহ তা'আলা তার জন্যে জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। যখন কোন দল মসজিদে কুরআন তিলাওয়াত করে এবং তা নিয়ে পরস্পর আলোচনা করে  তখন তাদের উপর প্রশান্তি নাযিল হয়, আল্লাহ তায়ালা'র রহমত তাদের ঢেকে ফেলে এবং ফেরেশতাগণ তাদের ঘিরে রাখে

_________ সূনান আত তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৯৪৫
Online Source: hadithbd.com


Share:

Wednesday, June 17, 2020

কেউ কুরআনের কোন আয়াত ভুলে গেলে 'আমি অমুক আয়াত ভুলে গেছি' একথা বলা রসুলুল্লাহ (সা:) অপছন্দ করতেন বরং 'আমাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে' একথা বলতে নির্দেশ দিতেন।



আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা:) হতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, তোমাদের কারো এরূপ কথা বলা কতই না আপত্তিকর 'আমি কুরআনের অমুক অমুক আয়াত ভুলে গেছি'। (বরং বলা উচিত) 'তাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে'। তোমরা স্মরণ রাখার জন্যে অনবরত কুরআন পাঠ করবে। সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ। উট যেভাবে রশি থেকে ছাড়া পেয়ে পালায়, এটা (কুরআন) মানুষের হৃদয় থেকে তার চাইতেও বেশি পলায়নপর।

__________ সূনান আত তিরমিজী হাদীস নং ২৯৪২
Online source: hadithbd.com

Share:
রসুলুল্লাহ (সা:) কুরআন তিলাওয়াত করতেন ধীরে থেমে থেমে স্পষ্ট উচ্চারণে, আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সেরুপই নির্দেশ দিয়েছিলেন "তুমি কুরআন তিলাওয়াত করো থেমে থেমে" সূরা মুজ্জাম্মিল ৪ ।



উম্মু সালামাহ্ (রা:) হতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা:) প্রতিটি শব্দ আলাদা আলাদাভাবে উচ্চারণ করে কিরআত পাঠ করতেন। তিনি পাঠ করতেন "আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন”, তারপর বিরতি দিতেন; তারপর পাঠ করতেনঃ “আর-রাহমানির রাহীম", তারপর বিরতি দিয়ে আবার পাঠ করতেনঃ “মালিকি ইয়াওমিদীন”। 
______ সূনান আত তিরমিজী হাদীস নং ২৯২৭, 
Online resource hadithbd.com


এই হাদীস থেকে বোঝা যায় রসুলুল্লাহ (সা:) সূরা ফাতিহা আরজি সাকিন করে পড়তেন। কি কি অবস্থায় থামা'র সময় আরজি করতে হয় জানার জন্য এই লিংকে দেখুন।
 
Share: